অন্যান্য বিভাগ

Showing posts with label ইবাদাত. Show all posts
Showing posts with label ইবাদাত. Show all posts

প্রবন্ধ-নিবন্ধ

পোষাক সম্পর্কে ইসলামের নির্দেশনা


তামীম রায়হান


মানুষ যখন বনে জঙ্গলে বাস করতোতখন তাদের কোন পরিধেয় বস্ত্র থাকতো না। সভ্যতার সূচনালগ্ন থেকে মানুষ নিজেকে ঢেকে রেখে মর্জিত হতে শিখেছিল। লজ্জা ও শালীনতার সেখান থেকেই শুরু। এর পূর্ণতা দিয়েছে ইসলাম। আধুনিকতা কিংবা প্রগতির নামে যারা আজ আবার পোষাককে সংকীর্ণ করে মুক্ত সংস্কৃতির দিকে ডাকছেমূলত তারাই আবার ফিরে যাচ্ছে প্রাকসভ্যতার অন্ধকারের দিকে- যেখানে আদিম মানুষদের বসবাস ছিল একেবারে পশুর মতো বস্ত্রহীন।

একজন মুসলমান হিসেবে আমাদের পোষাক কেমন হওয়া উচিত- আমরা কী পরব? গোল জুব্বা নাকি কোট টাই প্যান্ট- এ বিতর্ক অনেক দিনের। আমাদের দেশে আজকাল প্রত্যেক তরিকাপন্থীদের পোষাক ও লেবাস আলাদা। সাধারণ মুসলমানদের মধ্যেও এ নিয়ে রয়েছে নানা দ্বিধা দ্বন্দ। কিন্তু মূলত ইসলামে পোষাক সর্ম্পকে কি নির্দেশনা দিয়েছে?

লেনদেন

 ওজনে কম দিলে কী হবে?

- তামীম রায়হান -

এ মৌসুমে বাংলানিউজে একটি খবর দেখে অবাক হলাম। খবরে বলা হয়েছে, এ মৌসুমে রাজধানীতে প্রতিদিন প্রায় আড়াই কোটি থেকে তিন কোটি লিচু বিক্রি হয়। সেই হিসেব মতে প্রতি একশ লিচুতে ১৫-২০ টি করে কম দিলে তিন কোটি লিচুতে কম দেওয়া হয় ৪৫ লাখ থেকে ৬০ লাখ লিচু। প্রতিটি লিচুর গড় মূল্য তিন টাকা ধরলে খুচরা লিচু ব্যবসায়ীরা শুধু রাজধানীতেই প্রতিদিন ক্রেতাদেরকে ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা ঠকাচ্ছেন। বাকী জেলাগুলোর কথা না হয় বাদ-ই দিলাম।
পাড়া মহল্লার কাঁচাবাজারের সামান্য কাঁচামরিচ থেকে নিয়ে মাংসের দোকানে গরুর নামে মহিষের কারবার কিংবা অভিজাত ফাস্টফুড দোকানের ভেজাল থেকে নিয়ে রাষ্ট্রীয় টেন্ডার ঠিকাদারী- সর্বত্র আজ ধোঁকাবাজি ও অন্যকে ঠকানোর মহোৎসব। নৈতিকতা বিবর্জিত এমন আকাল মহামারীর মধ্যেও এসব প্রতারক আর দূর্নীতিবাজরা যে এখনও সুস্থাবস্থায় দিব্যি বেঁচে আছেন- এ যেন আল্লাহ পাকের অপরিসীম ধৈর্যের সামান্য নমুনা। আর এ অসুস্থ সমাজে আমাদের অসহায় বেঁচে থাকা দেখে মনে পড়ে রাসূল সা. এর দুআর কথা। মহান আল্লাহর কাছে তিনি মিনতি জানিয়েছিলেন, গুটিকয়েক মানুষের পাপের কারণে তুমি আমার পুরো উম্মতকে ধ্বংস করে দিওনা।

কুরআন শুধু তাবিজের জন্য নয়

- তামীম রায়হান -



আজ থেকে চৌদ্দশ বছর আগে মহান স্রষ্টার তরফ থেকে প্রেরিত সর্বশেষ নবীর উপর অবতীর্ণ হয়েছিল এক মহাগ্রন্থ পবিত্র কুরআন। যে কুরআনের ছোঁয়ায় উজ্জীবিত হয়ে সোনলী ইতিহাস গড়েছিলেন কিছু মাটির গড়া মানুষ, আমাদের সাহাবায়ে কেরাম। 
কিন্তু আজকের প্রেক্ষাপটে বারবার মনে জাগে, কেন নাযিল হল এ কুরআন? পবিত্র এ কুরআন কি শুধু আমাদের বরকত অর্জনের জন্য? নাকি একে চুমু দিয়ে বাচ্চাদের গলায় ঝুলিয়ে ভূত প্রেতাত্মা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য? অথবা সুন্দর মখমলের গিলাফে ভরে সাজিয়ে রাখার জন্য?

শুধু রুকু সিজদার নাম নামায নয়

- তামীম রায়হান -



সেদিন আমার পাশে বসে রাগ ঝাড়ছিলেন এক ভদ্রলোক। যাকে নিয়ে তার এত রাগ আর ক্ষোভ- তার কথা বলতে গিয়ে এক পর্যায়ে তিনি আমাকে বললেন, এই লোক আবার নামাজও পড়ে, কী লাভ এই নামাজের যদি ব্যবহারই ঠিক না হয়।
সেদিন আমিও থমকে গিয়েছিলাম তার উক্তি শুনে। সত্যিই তো, আমরা কত মানুষকেই তো নামাজ পড়তে দেখি- কিন্তু কজন নামাজের দাবী মেনে জীবনের সর্বক্ষেত্রে তা মেনে চলি। অফিসে আদালতে কত নামাযী ব্যক্তিই তো দায়িত্বে ফাঁকি দিচ্ছে, ব্যবসায়ী ওজনে কম দিচ্ছে, নামাযী কত মানুষ অহরহ মিথ্যা বলছে, অন্যকে ঠকাচ্ছে।

লোকদেখানো লৌকিকতা বর্জনীয়

- তামীম রায়হান -

আজ রাজার বাড়ীতে দাওয়াত। এলাকার পীর সাহেব তার ছেলেকে সাথে নিয়ে রওয়ানা হলেন। যথারীতি পৌঁছলেন রাজপ্রাসাদে। নামাজের সময় হলে রাজার পাশে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়লেন। তারপর ভোজসভা। রাজার পাশে বসে খেলেন। এবার ঘরে ফেরার পালা। ঘরে ফিরেই স্ত্রীকে ডেকে বললেন পীরসাহেব, কই গো! খাবার আনো, পেটের ক্ষুধা নিভেনি। 
সাথে থাকা ছেলেটি অবাক হয়ে বলে, আব্বাজান! আপনি না রাজপ্রাসাদ থেকে এই মাত্র খেয়ে এলেন। আবার খাবেন?